শুকনো ফল খাওয়ার কিছু আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য উপকারিতা

 শুকনো ফল খাওয়ার কিছু আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য উপকারিতা

 এই ৪টি খাবার সবসময় রাখতে পারেন হাতের কাছে ।

তাজা ফলের চেয়ে শুকনো ফল খাওয়া শরীরে আরও বেশি পুষ্টি জোগায়। শুকানোর প্রক্রিয়া ফলের মধ্যে পুষ্টিকে ঘনীভূত করে। এটি কয়েকটি পটাসিয়াম, ফোলেট এবং ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করতে পারে। চিনির পরিমাণ বেশি থাকা সত্ত্বেও শুকনো ফল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রোধ করতে এবং হ্রাস করতে পারে। কিসমিস জাতীয় সাধারণ শুকনো ফলগুলিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। শুকনো ফলের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া উন্নত করতে পারে। তারা অগ্ন্যাশয়ে জারণ চাপ এবং প্রদাহ রোধ করতে পারে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য, শুকনো ফল সাহায্য করতে পারে। এগুলিকে সুপারফুড হিসাবে বিবেচনা করা হয় যার মধ্যে আয়রন, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে এছাড়াও তাদের ক্যালরি এবং কার্বের পরিমাণ কম রয়েছে। শুকনো ফলের ভিটামিন সি কেবল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না , এটি ত্বকের মান উন্নত করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। 

খেজুর


 

পুষ্টিগুণ

প্রচুর ভিটামিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খেজুর একজন সুস্থ মানুষের শরীরে আয়রনের চাহিদার প্রায় ১১ ভাগই পূরণ করে। প্রতিদিন সকালে ৩-৪ টি খেজুর খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। বিশেষত যারা কোনো ধরণের পেটের রোগে ভুগছেন তাদের জন্য তো এই ফলটি বিশেষ উপকারী যারা নিয়মিত খেজুর খান, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনি মোটা হয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পান । তাই খেজুরকে খাদ্যতালিকায় রাখার কথা বলেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা । বিশেষত যাদের ডায়াবেটিস আছে , তাদেরকে ওজন কম রাখতে বলেন ডাক্তাররা, সেক্ষেত্রে শুকনো খেজুর দারুণ কার্যকর , তবে নির্দেশিত পরিমাণ মতো খেতে হবে

খেজুর রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। খেজুরকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। চারটি খেজুর বা ৩০গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। প্রচুর ভিটামিন বি, থাকার কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে

 

 


কিসমিস


 

শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি রক্তে লাল কণিকার পরিমাণ বাড়ায় কিসমিস। শুকনো কিসমিস খাওয়ার পরিবর্তে ভিজিয়ে খেলে উপকার বেশি কিসমিস ভেজানো পানি রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে প্রতিদিন কিসমিসের পানি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাবেন ওষুধ ছাড়াই। এছাড়া কিসমিস হৃদয় ভালো রাখে। নিয়ন্ত্রণে রাখে কোলেস্টেরল। কিসমিসে প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ আছে। আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সহজে রোগমুক্তির কারণ। আর আছে প্রচুর আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবার

কিসমিস খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় সারারাত কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন ভোরে সেটা খান। ভেজানো কিসমিসে থাকে আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবার। হাই ব্লাডপ্রেসারের সমস্যা থাকলেও এটি তা নিয়ন্ত্রণে রাখে

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি কিসমিস। এর মধ্যে থাকা পটাসিয়াম হাই ব্লাড প্রেসার বশে রাখে

রক্ত স্বল্পতা কমাতে কিসমিস যথেষ্ট উপকারি। নিয়মিত কিসমিস খেলে এর মধ্যে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। এছাড়াও এর মধ্যে আছে তামা যা রক্তে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে

সুস্থ থাকার জন্য ভালো হজমশক্তি জরুরি। এক্ষেত্রে কিসমিস হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। রোজ রাতে এক গ্লাস পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন ভোরে সেই কিসমিস খান। নিজেই তারপর তফাত খেয়াল করুন দিন পনেরো পরেই

আপনি যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়াতে চান তবে ভেজা কিসমিস এবং তার পানি নিয়মিত খান। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

শরীরকে দূষণমুক্ত করতে কিসমিস খান নিয়মিত। চারিদিকের দূষণে আপনি যখন জেরবার তখন সকালে খালি পেটে ভেজানো কিসমিস খেলে শরীর বিষমুক্ত হবে। ভেজানো কিসমিসের পাশাপাশি কিসমিস ভেজানো পানিও খেতে পারেন

নিয়মিত কিসমিস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। আপনি যদি পেটের সমস্যায় নিয়মিত ভোগেন তাহলে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ভেজানো কিসমিস খান। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে কষ্ট পান তারা ওষুধের বদলে নিয়মিত কিসমিস খেয়ে দেখতে পারেন

চিনিযুক্ত বা মিছরিযুক্ত খাবার না খেয়ে বাদাম খেলে স্বাভাবিকভাবেই এটি স্বাস্থ্যকর। প্রতিটি বাদামের পুষ্টি বা স্বাস্থ্যগুন ভিন্ন। বাদাম হল উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবারের একটি বিস্ময়কর উৎস। ভিন্ন বাদামের গুন ভিন্ন তাই বলে একটির চেয়ে অন্যটি বেশি স্বাস্থ্যকর তা নয়।

 

 

বাদাম




 

পুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতার দিক থেকে দেখতে গেলে বাদামের কোনো বিকল্প হয় না। আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বাদাম খুবই উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন , ফাইবার, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পটাশিয়াম এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসহ আরও কত কী যে আছে, যা নানাভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কেউ যদি এক বাটি করে বাদাম খাওয়া শুরু করেন, তাহলে তা শরীরকে চাঙা তো রাখেই, সেই সঙ্গে একাধিক রোগ দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে

 

আপনাকে জানতে হবে কোন বাদাম কিসের জন্য ভালো। শরীরের কোন কাজে লাগে। 



 

 চিনাবাদাম : মানসিক চাপ কমায়

পার্কে বা কোথাও ঘুরতে গেলে আমরা এক মুঠো চিনাবাদাম নিয়ে বসে যাই। গল্প বা আড্ডা সাথেও চিনাবাদাম আমাদের চাই। কিন্তু নিরবে কিন্তু সে তার কাজ করে যাচ্ছে

চিনা বাদাম আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। 

গবেষণায় জানা গেছে প্রতিদিন ২৫ গ্রাম চিনাবাদাম খেলে আপনার কোলেস্ট্রেরল কমবে। এছাড়া হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে চিনাবাদম খুব পটু। 

কাঠ বাদাম: ত্বকের যত্ন নেয়

কাঠ বাদাম আমরা সবাই খাই। কিন্তু কাঠ বাদাম আমাদের শরীরের কী উপকারে আসে জানেন? ত্বকের যত্নের জন্য নিশ্চিন্তে খেতে পারেন কাঠ বাদাম

এই বাদাম আপনার ত্বককে আরো স্বাস্থ্য উজ্জ্বল করে তুলবে। 

যারা ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন যেমন ত্বকের পিগমেন্টটেশনের সমস্যা তারা কাঠ বাদাম খেতে পারেন। কারণ এত আছে ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। দূষণে আপনার ত্বকের কোষ যেন নষ্ট হয়ে না যায় সেই খেয়াল রাখে এই উপাদানগুলো

রোদের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেতেও সুরক্ষা দেয়। 

এক গবেষণায় জানা গেছে নারীরা ১৬ সপ্তাহ ধরে বাদাম খাওয়ার ফলে ২০শতাংশ ত্বকের বলিরেখা কমে গেছে। 


কাজু বাদাম: উচ্চ রক্ত চাপের জন্য

কাজু বাদাম একদম মাখনের মতো। বেশ ঘন। খেতেও মজা । আমরা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করি। স্বাদের সাথে সাথে পুষ্টিতেও ভরপুর। 

কাজু বাদাম আপনার শরীরের পেশীর যত্ন নেয়। কারণ এত আছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম। স্নায়ুর যত্ন নেয় সঙ্গে শরীরে শক্তি যোগায়। এ ছাড়াও আছে আয়রণ আপনার পেটের জন্যে খুব উপকারি। কোলেষ্ট্রেরলের পরিমান কমায়, রক্ত চাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। 

পেস্তা বাদাম: প্রোটিন এর উৎস

পেস্তা বাদাম হলো প্রাকৃতিক প্রোটিনের প্রধান উৎস। এতে আছে অ্যামিনো এসিড, প্রোটিন, ফাইবার। এ ছাড়াও আছে ভালো চর্বি। সহজেই আপনার শরীরে শক্তি যোগাবে এই বাদাম। 

আখরোট: মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য সেরা

খেয়াল করবেন আখরোট দেখতে আনেকটা আপনার মস্তিষ্কের আকারের মতো। দেখতে যেমন কাজও করে তেমন

আখরোট আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডও সমৃদ্ধ, আছে এক ধরনের ওমেগা-৩ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্ক ভালো রাখে। 

 

মধু



নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত মধু হলো উচ্চ ঔষধি গুণসম্পন্ন ভেষজ তরল, যা সুপেয় এবং অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন সুস্বাদু খাবারমধুতে রয়েছে ৪৫টির বেশি পুষ্টি উপাদান, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২৫-৩৭% গ্লুকোজ, ৩৪-৪৩% ফ্রুক্টোজ, .-% সুক্রোজ, -১০% ম্যাল্টোজ, ২২% অ্যামিনো অ্যাসিড, ২৮% খনিজ লবণ, ১২% এনজাইম, ভিটামিন বি-, ভিটামিন বি-, ভিটামিন বি-, ভিটামিন বি-, ভিটামিন বি-, আয়োডিন, জিংক, আয়রন, কপার, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল




মধুর উপকারিতা

শক্তি প্রদায়ী : মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে

হজমে সহায়তা: এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়

রক্তশূন্যতায়: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ

ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে: বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। অনেকে মনে করে, এক বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো

অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে

যৌন দুর্বলতায়: পুরুষদের মধ্যে যাঁদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে, তাঁরা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান, তাহলে বেশ উপকার পাবেন ব্রিটেনের ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, নারী-পুরুষ উভয়েরই যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধি করতে চাকভাঙা মধু বিশেষ ভাবে কার্যকর ব্রিটিশ গবেষকদের দাবি, পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমনের ক্ষরণ বৃদ্ধিতে মধু খুবই কার্যকরী তাঁরা জানান, মধুর অন্যতম উপাদান বোরন মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

 

প্রশান্তিদায়ক পানীয়: হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়

পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়

তাপ উৎপাদনে: শীতের ঠান্ডায় এটি শরীরকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা–চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে

পানিশূন্যতায়: ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে: চোখের জন্য ভালো। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে

রূপচর্চায়: মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহৃত হয়

ওজন কমাতে: মধুতে নেই কোনো চর্বি। পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে

হজমে সহায়তা: মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয় এবং হজমে সহায়তা করে

গলার স্বর: গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে

তারুণ্য বজায় রাখতে: তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও তারুণ্য বাড়ায়

হাড় ও দাঁত গঠনে: মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে

রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: এতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

আমাশয় ও পেটের পীড়া নিরাময়ে: পুরোনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে

হাঁপানি রোধে: আধা গ্রাম গুঁড়ো করা গোলমরিচের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিনবার এই মিশ্রণ খান। এটা হাঁপানি রোধে সহায়তা করে

উচ্চ রক্তচাপ কমায়: দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত

রক্ত পরিষ্কারক: এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রণ খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া রক্তনালিগুলোও পরিষ্কার করে

রক্ত উৎপাদনে সহায়তা: রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে

হৃদ্‌রোগে: এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদ্‌রোগের টনিক হিসেবে কাজ করে। এটা হৃৎপেশিকে সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে

রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়: মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে



Post a Comment

0 Comments

YOU MIGHT LIKE